আজ ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

বাঘাইছড়িতে পাঁচ দিনের বিজু উৎসব শুরু

নুরুল আলম: পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়িদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসুক-সাংগ্রাই-বিজু-বিহু উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী বৈসাবি উৎসব শুরু হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলিতে।

রবিবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার সময়ে স্থানীয় তরুণ তরুণীরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের পোষাক পরে অংশগ্রহণ করেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।

এরপর উপস্থিত অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধন করেন ৩৫নং বঙ্গলতলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান জ্যোতি চাকমা। উদ্বোধনের পর স্থানীয় নৃত্য শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ পাহাড়ি নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

আলোচনা সভায় শুভ শান্তি চাকমা মেম্বার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জ্ঞান জ্যোতি চাকমা চেয়ারম্যান ৩৫নং বঙ্গলতলি ইউপি, সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মুক্তাসোনা চাকমা, এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্দ্র বিকাশ চাকমা সভাপতি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি করেঙ্গাতলি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অরেন্টুু চাকমা প্রধান শিক্ষক জারুলছড়ি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্ঞান জ্যোতি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের অন্য ৬১টি জেলার থেকে ভিন্ন, এখানে নানান জাতি গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসাথে মিলেমিশে বসবাস করে। বৈসুক সাংগ্রাই বিজু পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রধান সামাজিক উৎসব। এদিনে আমরা পুরানো দিনের সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে বড়দের আশীর্বাদ নিয়ে নতুন বছর নতুন করে শুরু করি। তাই এ দিনগুলো হয় আমাদের সকলের মিলন মেলা।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গলতলি ইউনিয়নের মানুষ এখন অনেক পিছিয়ে পড়া জনপদ শিক্ষা ও অবকাঠামো দিকে আমরা এখন অনেক পিছিয়ে পড়া বলে মন্তব্য করেন।

এছাড়া পাঁচ দিনব্যাপী মেলায় ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব, পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী যন্ত্র সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচদিন ব্যাপী এ মেলা আগামী ১৩ এপ্রিল শেষ হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানে মক্তাসোনা চাকমা বলেন, বিজু আমাদের সকলের একটি আনন্দন দিন এই দিনটিতে আমরা সকলেই পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে দুখে আনন্দ ভাগাভাগি করি এবং আমাদের জাতীয় সংস্কৃটি তুলে ধরার চেষ্টা করি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যে পাহাড়িদের ঐতিহ্য সংস্কৃটি রয়েছে তা যেন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা শিকতে পারে সেভাবে আমাদের চলতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতি শুভ শান্তি চাকমার বক্তব্যের শেষে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী দুদুক, ঘিলা খেলা, নাদেং হারা সকালের অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ২০ টি খেলাধুলার আয়োজন করেছে বলে আয়োজকরা বলেছেন।

Share

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ

You cannot copy content of this page